নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপি নেতাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে প্রকাশ্যে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্থযোগানদাতা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের পিএমখালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান লাভলু। তিনি প্রকাশ্যে সবধরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করছেন। এবার বিশ্ব পর্যটন দিবসে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত কর্মসূচিতেও তাকে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকার আমলেও এই যুবলীগ নেতা নিজের এলাকা সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ট করে তুলেছেন। তার নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছেন পরিবারের নিকটাত্মীয়রাও।
হাফিজুর রহমান লাভলু পিএমখালী ইউনিয়নের মুহসিনিয়া পাড়ার মৃত বদিউল আলমের ছেলে এবং বর্তমানে তিনি কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ায় রাবেয়া মঞ্জিল নামের নিজেদের বাড়িতে বসবাস করেন।
সুত্র বলছে, হাফিজুর রহমান লাভলু বিএনপির মধ্যমসারির একজন নেতার আনুকূল্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ব্যবহার করে নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই সকল বিএনপি নেতাদের সহায়তায় হোটেল-মোটেল জোনে আওয়ামী লীগ আমলে প্রতিষ্ঠিত নিজের ব্যবসায়িক রাজত্ব এখনো টিকিয়ে রেখেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হাফিজুর রহমান লাভলু তার বাবার মৃত্যুর পর অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সেই সুবাদে পরিবারের অন্য সদস্যদের টপকে সেই সব সম্পদের কার্যক্রম নিজের করে নিয়েছেন। কক্সবাজার শহরের হোটেল মোটেল জোনে বীচ হলিডে নামের হোটেল ছাড়াও শহরে স্পা সার্ভিস, লিংক রোড এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পিএমখালী ইউনিয়নের ব্যবসা মিলিয়ে তিনি বড় অংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগ মতে, আওয়ামী লীগের অর্থযোগানদাতাদের অন্যতম হলেন এই হাফিজুর রহমান লাভলু। তিনি আওয়ামী সরকার আমল থেকেই আওয়ামী লীগকে অর্থযোগান দিয়ে আসছেন। বর্তমানে কক্সবাজার শহরের মধ্যমসারির একজন বিএনপি নেতার হাত ধরে তিনি প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিএনপি নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন তিনি।
অভিযোগ মতে, বিএনপির মধ্যমসারির ওই নেতা নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে বেড়ান। তিনি সর্বত্র সালাহউদ্দিন আহমদের নাম ‘বিক্রি করে’ সুবিধা আদায়ে তদবির বাণিজ্য করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিশ্ব পর্যটন দিবসের র্যালিতেও তাকে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। তিনি হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির ব্যানারে পর্যটন দিবসের র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। পরে অংশগ্রহণের সেই ছবি সেলফি তুলে সামাজিকমাধ্যমে পোষ্টও করেছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, একজন দায়িত্বশীল আওয়ামী লীগ নেতা কিভাবে সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং কারা তাকে এই কাজে সহযোগিতা করছেন? সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিএনপির গুটিকয়েক নেতা-কর্মী তার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে সবধরণের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ‘লাইসেন্স’ পেয়েছেন।
অপরদিকে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান লাভলু এই বিএনপি আমলেও পিএমখালীতে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার নিপীড়নে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিবারের নিকটাত্মীয়রাও।
অপরদিকে হাফিজুর রহমান লাভলু প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে দেখছে না। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান লাভলুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, হাফিজুর রহমান লাভলু কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের পদধারী হলেও তিনি পিএমখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা করার জন্য তদবির চালিয়েছিলেন তিনি।
